হাই প্রেসার এর লক্ষণ। হাই প্রেসার কমানোর উপায় কি?

হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ:

হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (Hypertension) বা HTN , বা HPN হল একটি রোগ যখন কোন ব্যক্তির রক্তের চাপ সব সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে হয় । প্রায় ৯০–৯৫% ভাগ ক্ষেত্রেই “প্রাথমিক হাইপারটেনশন” বলে চিহ্নিত করা হয়।

প্রেসার অতিরিক্ত বেড়ে গেলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনির সমস্যা ইত্যাদির কারণ হতে পারে । হাই প্রেসারের রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের সমস্যা বুঝতে পারেন না। এই না বুঝতে পারার কারণে পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি থাকে। যদি কারও ব্লাড প্রেশার রিডিং যদি ১৪০ বা ৯০ এর চেয়েও বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের পরিমান বেশি দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী ৩০-৭৯ বছর বয়সী ১.২৮ বিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্করা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অন্যদিকে ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই অবস্থা সম্পর্কে সচেতন নয়।

উচ্চ রক্তচাপে মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। এজন্য প্রাথমিক অবস্থায় এর কিছু লক্ষণ জানা ও নিয়ন্তন করা  জরুরি। জেনে নেওয়া যাক উচ্চ রক্তচাপের কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না কখনো-

হাই প্রেসার এর লক্ষণ:

মাথাব্যথা

উচ্চ রক্তচাপ ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন নামে একটি অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। এই অবস্থায় ক্রেনিয়ামের অভ্যন্তরে চাপ গুরুতর মাত্রায় তৈরি হয়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মাথাব্যথা সৃষ্টি করে। এই মাথাব্যথা কমানো কঠিন। এটি জ্বর বা মাইগ্রেনসহ অন্যান্য মাথাব্যথা ধরনের চেয়ে আলাদা ।

বুকে ব্যথা

উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত বুকে ব্যথাকে এনজাইনাও বলা হয়। এনজাইনা বুকে ব্যথার মতো নয় যা নির্দিষ্ট প্যাথোজেনিক সংক্রমণের কারণে ঘটে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরার মতে চেপে যাওয়া, চাপ, ভারী হওয়া, বুকে চাপ বা ব্যথা কে বলে । এনজাইনা পেক্টোরিস নামেও পরিচিত, হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল কম হলে এনজাইনা হয়।

ঝাপসা দৃষ্টি

উচ্চ রক্তচাপের ফলে দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে। এতে চোখের রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যার ফলে হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি হয়। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতন না হলে কিংবা এর সঠিক সময় চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তির অবনতি ঘটতে পারে।

ক্লান্তি

ক্লান্তি শরীরের প্রায় প্রতিটি অসুস্থতার সঙ্গেই যুক্ত। তবে একটানা ক্লান্তির লক্ষণ ভালো নয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগী ক্লান্তিতে ভোগেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই তা অবহেলা করেন। মনে রাখবেন, সামান্য ক্লান্তিও কিন্তু বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই লক্ষণ অবহেলা করে বিপদ ডেকে আনবেন না।

উচ্চ রক্তচাপের অন্যান্য লক্ষণ কী?

* নাক দিয়ে রক্ত পড়া

* অনিয়মিত হৃদযন্ত্রের ছন্দ

* কানে বিভিন্ন শব্দ শোনা

* বমি বমি ভাব

* বিভ্রান্তি

* দুশ্চিন্তা

* পেশি কম্পন

* অনিদ্রা

হাই প্রেসার কমানোর উপায় কি?

১.  রক্তচাপ নির্ণয়ের পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ ও পরীক্ষা করা জরুরি।

২.  প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ কম করুন। খাবারে কখনও অতিরিক্ত লবণ যোগ করবেন না। কম লবণ যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. সুস্থ শরীরের ওজন বজায় রাখুন। এটি সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপ। ব্যায়াম করুন নিয়মিত। স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে আপনার ওজন ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখুন।

৪.  নিজেকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখুন। নিয়মিত হাটাচলা বা ওয়ার্কআউট উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। দৈনিক আপনার রুটিনে অন্তত আধা ঘণ্টা ওয়ার্কআউট রাখুন।

৫.  খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা- তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। চর্বিযুক্ত খাবার, মাছ, গোসত, তেলে ভাঁজা খাবার শারীরিক কার্যকলাপের প্রভাব ফেলে ও প্রক্রিয়াজাত খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৬. ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা – ধূম পানের কারণে শরীরে নানা ধরণের বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বাড়ে যায় , ফলে শরীরে ও শিরার নানা রকম রোগসহ হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

সুস্থ থাকতে উপরের নিদেশনা গুলো মেনে চলুন । প্রতি দিন ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করুন । ভাল মানের ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল ব্লাড প্রেশার মাপার মেশিন কিনার জন্য ভিসিত করুন Tista.com.bd তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Main Menu