প্রেসার লো হলে করণীয় কি? লো প্রেসার এর লক্ষণ কি?

    প্রেসার লো:

    নিম্ন রক্তচাপ বা Hypotension হল মানব দেহের রক্ত সংবাহন তন্ত্রের এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তের সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মি. মি. মার্কারি ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মি. মি. মার্কারির নিচে হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়।, ক্লিনিক্যালি তখনই নিম্ন রক্তচাপ (Low Blood pressure) বলে যদি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। এটি সচরাচর রোগের থেকে স্বাভাবিক শরীর তান্ত্রিক অবস্থা। যারা নিয়মিত ব্যায়াম চর্চা করে থাকে, তাদের জন্য এটি সুস্থতার নিয়ামক। যাদের রক্তচাপ অস্বাভাবিক হারে কম,তাদের হৃদক্রিয়া, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কিংবা মস্তিষ্কজাত সমস্যা থাকতে পারে। এই রক্তচাপ বজায় থাকলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গে রক্ত সরবারাহ কম থাকার কারণে সেখানে অক্সিজেন এবং পুষ্টির অভাব হতে পারে যা জীবনের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। এরূপ অবস্থাকে শক (Shock) বলে।

     

    নিম্ন রক্তচাপ লক্ষণ:

    নিম্ন রক্তচাপ বা Hypotension এর অঙ্কবাচক লক্ষণ হল মাথা ঘোরা । রক্তচাপ পর্যাপ্ত কম হলে অজ্ঞান এবং প্রায়ই হৃদরোগ ঘটবে। এছাড়াও যা যা হতে পারে

    ১. বুকে ব্যথা

    ২. দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস

    ৩. অনিয়মিত হার্ট রেট

    ৪. জ্বর হওয়া (১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট)

    ৫. প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা হওয়া

    ৬. কাশি

    ৭. অনেক দিন ডায়রিয়া ইত্যাদি।

     

    নিম্ন রক্তচাপের কারণঃ

    * পানিশূন্যতা হওয়া।

    * ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া।

    * খাবার ঠিকমতো বা সময়মতো না খাওয়া।

    * হজমে দুর্বলতা।

    * কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত থাকা।

    * শরীরে হরমোনজনিত সমস্যা ভারসাম্যহীনতা।

    * রক্তশূন্যতা।

     

    নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয়ঃ

    * নিম্ন রক্ত চাপে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় একই স্থানে বসে বা শুয়ে থাকবেন না।

    * অনেকক্ষণ ধরে বসে বা শুয়ে থাকার পর ওঠার সময় সাবধানে ও ধীরে ধীরে উঠুন।

    * ঘন ঘন হালকা খাবার খান। বেশি সময় খালি পেটে থাকবেন না । খালি পেটে থাকলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

    * পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

    * খাবার সময় পাতে এক চিমটি করে লবণ খেতে পারেন।

    * দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় গ্লুকোজ ও স্যালাইন রাখুন।

     

    লো প্রেসার বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়:

    লবণ পানি (Salt):
    লবণে রয়েছে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায়। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা চামচ চিনি ও এক-দুই চা চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে চিনি বর্জন করতে হবে।

    কফি (Coffee):
    স্ট্রং কফি, হট চকলেট, কোলাসহ যেকোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। যারা অনেকদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ স্ট্রং কফি খেতে পারেন। তবে সবসময় লো প্রেসার হলে কোলা না খাওয়াই ভালো। কারণ এর অন্যান্য ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে।

    কিছমিছ (Raisins):
    হাইপোটেনশনের ওষুধ হিসেবে অতি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে কিছমিস। এক-দুই কাপ কিছমিছ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালিপেটে সেগুলো খান। সঙ্গে কিছমিছ ভেজানো পানিও খেয়ে নিন। এছাড়াও পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চীনাবাদাম খেতে পারেন।

     

    পুদিনার পাতা (Mint):
    ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। পুদিনা পাতা বেঁটে তাতে মধু সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন।

    যষ্টিমধু (Yashtimadhu)
    যষ্টিমধু আদিকাল থেকেই নানা রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। তাছাড়াও দুধে মধু দিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

    বিটের রস(Beetroot):
    বিটের রস হাই প্রসার ও লো প্রেসার উভয়ের জন্যই সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। হাইপোটেনশনের রোগীরা দিনে দুই কাপ বিটের রস খেতে পারেন। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

    সুতরাং সুস্থ থাকতে উপরের নির্দেশনা গুলো মেনে চলুন। রেগুলার ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন। ভাল মানের ব্লাড প্রেসার মেশিন কিনার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিত করুনঃ Tista.com.bd

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Main Menu