ডায়াবেটিস এর লক্ষণ ও ডায়াবেটিস কমানোর উপায় । ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল?

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ ও ডায়াবেটিস কমানোর উপায় । ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল?

আমাদের শরীরের অগ্ন্যাশয় যখন আর ইনসুলিন হরমোন তৈরী করতে পারে না বা যখন শরীর অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিনের সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে না, তখনই ডায়াবেটিস রোগের শুরু হয়। এই ডায়াবেটিস রোগের ফলে আমাদের শরীর খাদ্যকে যেভাবে শক্তিতে পরিণত করে, তা রূপান্তরে বাধার  মুখে পরে ।

আমরা প্রতিদিন যে সকল খাবার গ্রহন করি, তার অধিকাংশই চিনি বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার। এই খাবার গুলো আমাদের রক্তপ্রবাহের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যাহার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন নিঃসরণের সংকেত দেয়। ইনসুলিন কোষে এই গ্লুকোন প্রবেশ করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, আমাদের শরীরের কোষগুলোকে গ্লুকোজ গ্রহণ করে কোষের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করার চাবি হিসেবে ইনসুলিন কাজ করে।

যখন এই ডায়াবেটিস রোগের তৈরি হয়, তখন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরী হয়না বা যে পরিমান ইনসুলিন তৈরী হচ্ছে, তার সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না। যখন এই পর্যাপ্ত ইনসুলিন থাকে না বা কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কোন আগ্রহ দেখায় না, তখন রক্তে অত্যধিক মাত্রায় শর্করা থেকে যায়। মেডিকেলীয় ভাষায়, এটি কে হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Hyperglycemia) বা ডায়াবেটিস বলা হয় ।

বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বড়েই চলছে। প্রতি বছর লখ লখ রোগী ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদিতে। ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে।

যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে, তারা প্রথমদিকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। কারণ এটা হচ্ছে ধীরগতির ঘাতক। আস্তে আস্তে তার শরীরের ক্ষয় করে দেবে। ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পাননা যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন । বাংলাদেশের মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে আক্রান্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অশনাক্ত থাকলে বা চিকিৎসা না হলে কিডনি, লিভার, চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সাথে শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, চুল পড়ে যায়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গও ক্ষতির শিকার হতে পারে।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ :

১. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পানি পিপাসা লাগা

২. দুর্বল লাগা’ ঘোর ঘোর ভাব আসা

৩. ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া

৪. সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া

৫. মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া

৬. কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া

৭. শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলে দীর্ঘদিনেও সেটি ভাল না হওয়া

৮. চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব

৯. বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা

১০. চোখে কম দেখতে শুরু করা

১১. পেট ব্যথা করা

১২. শ্বাসকষ্ট হওয়া

১৩. কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা

১৪. নিদ্রাহীনতা

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়:

চর্বিযুক্ত মাছ (Fat Fresh)

চর্বিযুক্ত মাছের তালিকায় রয়েছে স্যালমন, সার্ডিন, হেরিং ইত্যাদি মাছ। যে সব মাছ ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড পূর্ণ, যে সব মাছ DHA এবং EPA এর বড় উৎস সেই সব মাছই পারে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এছাড়াও নিয়মিত এই সকল মাছ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে যায় ।

শাকসবজি (Vegetable)

নিয়ম করে প্রতিদিন সবজি খাবেন। প্রয়োজনে মাছ-মংসের পরিবর্তে সম পরিমাণ সবজি খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ এবং ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণের  মধ্য ।

ভিটামিন সি (Vitamin C)

শাক-সবজি খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে ভিটামিন সি জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এতে করে হার্ট, চোখ সুস্থ ও ভাল থাকবে।

ডিম (Egg)

শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিমের ভূমিকা রয়েছে । তাই প্রতিদিন একটা করে ডিম খাবেন। এক্ষেত্রে সিদ্ধ ডিম খাওয়াই সবথেকে ভাল। হার্টের রোগীরাও নির্ভয়ে প্রতি দিন ডিম খেতে পারেন ।

ডুমুর (Fig)

ডায়াবেটিসের রোগীদের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে ডুমুর। ডুমুরের মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডুমুরে হাইপোগ্লাইসেমিক উপাদান রয়েছে, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া ডুমুর পাতায় ইনসুলিন প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে।

মটরশুঁটি (Bean)

মটরশুঁটির গ্লাইসেমির ইনডেক্স খুবই কম। সেই সঙ্গে পুষ্টিতে ভরপুর। যে কারণে ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য খুব ভাল মটরশুঁটি। মটরশুঁটি বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকেও রক্ষা করে।

টকদই (Sour Cream)

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ওজন কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জুড়ি মেলা ভার টকদইয়ের। নিয়মিত ভাবে খেতে পারলে অনেক রকম উপকার পাবে।

চিয়া সিডস(Chia Seeds)

চিয়া সিডসের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। যা আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাল কার্যকরী চিয়া সিডস।

করলা (Bitter Gourd)

ডায়াবেটিস কমাতে করলা একটি ভাল ঘরোয়া উপায়। করলা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা রাখে। করলাতে ক্যারোটিন এবং মমর্ডিসিন নামক দুটি প্রয়োজনীয় যৌগ থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কম করে । ডায়াবেটিস কমাতে সপ্তাহে একবার করলা তরকারি হিসাবে ব্যবহার করুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই রস পান করুন ।

আমের পাতা (Mango Leaves)

আমের পাতা আপনাকে দেহে ডায়াবেটিসের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসার জন্য তাজা আমের পাতা কার্যকর ঘরোয়া উপায়। আমের পাতায় ভিটামিন এ, সি এবং ট্যানিন থাকে যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ডায়াবেটিস কমাতে সহায়তা করে।

মেথি (Fenugreek)

মেথি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, গ্লুকোজ সহনশীলতা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে। মেথি খেলে হজম শক্তি হ্রাস হয়, যাতে রক্তে সুগার সঠিকভাবে শুষে যায়। ডায়াবেটিস হ্রাস করার ঘরোয়া উপায় হিসাবে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি বীজ দিয়ে সেই পানি পান করুন।

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল?

সাধারণত বাড়িতে কিংবা ফার্মেসিতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে আঙ্গুলের ডগায় থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ডায়াবেটিস মাপা হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালের ল্যাবে শিরা থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ব্লাড সুগার মাপা হয়। হাসপাতালের রিপোর্টের তুলনায় গ্লুকোমিটারে মাপা ব্লাড সুগারের পয়েন্ট সামান্য কম বেশি আসতে পারে।

একজন সুস্থ মানুষ গ্লুকোমিটারে ডায়াবেটিস পরীক্ষায় রক্তে সুগারের মাত্রা খাবার আগে ৭ পয়েন্ট  এর নিছে থাকে তাহলে স্বাভাবিক ধরা হয় এবং খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ১১ পয়েন্টের উপরে আসে  তাহলে তা অস্বাভাবিক বা উচ্চ ডায়াবেটিস ধরা হয়।

সুস্থ থাকতে উপরের নিয়ম গুলো মেনে চলুন এবং নিয়মিত আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করুন। ভাল মানের ডায়াবেটিস পরীক্ষার মেশিন কিনার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট Tista.com.bd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Main Menu